Sunday, November 24, 2019

Image result for হেলিকপ্টার ও মোরগ

হেলিকপ্টার ও মোরগ

---------
একদিন আমাদের সাথে পাশের বাড়ির জ্যাঠিদের প্রচন্ড ঝগড়া হলো। তাই প্রথানুযায়ী দুই তিনদিন কেউ কারো বাড়িতে যাতায়াত করবে না। তাকাবে না। সামনে পরে গেলে শুধু মনে মনে গালি দিবে আর গোখরা সাপের মতো মুখে ফুসফুস করবে। এই ছিলো নিয়ম।
আরেকটা নিয়ম ছিলো, কারোর ছাগল, গরু, হাঁস মুরগী যদি আরেকজনের বাড়িতে যাতায়াত করে তবে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।
সেদিন বিকালে উঠানে বসে আমি আর আমার ছোট বোন মুড়ি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ শুনি ঘরের পেছনের দিকের টিনের বেড়ায় ধুম করে একটা শব্দ হলো। সাথেই একটা মুরগীর মৃত্যু চিৎকার। বুঝলাম ঘটনা ঘটে গেছে। হাতে একটা কঞ্চি নিয়ে বীর যোদ্ধার মতো দাদীকে ঘরের পেছন থেকে হেঁটে আসতে দেখে আরো শিউর হলাম যে শত্রুপক্ষের এক সৈনিক অলরেডি আহত হয়েছে। সুতরাং যুদ্ধের স্থায়িত্ব আরো কিছুদিন বেড়ে গেলো।
তারপর সন্ধ্যায় মুরগীর ঘরে উঠার সময় হলে জানা গেলো দাদী যে মুরগীকে শত্রুপক্ষের ভেবে আক্রমণ করেছিলেন, ওটা আসলে আমাদের মুরগী ছিলো। আমাদের একমাত্র লাল ঝুটিওয়ালা মোরগ। 😥
এবার শুরু হলো গৃহযুদ্ধ। আমার মা এবং আমার দাদীর মধ্যে। দর্শক হিসাবে পাশের বাড়ির জ্যাঠিকে দূর থেকে তাকিয়ে কয়েকবার মুখ টিপে হাসতে দেখা গেলো।
আজ বহুদিন পর মুরগী মারার এই ঘটনাটি মনে পরার একমাত্র কারণ হচ্ছে, একটু আগে নিউজে দেখলাম- "পাকিস্তানের ভেবে নিজেদের হেলিকপ্টার ধ্বংস করে ফেলেছে ভারত"।
বিরাট খবর। দর্শক হিসাবে এবার আমাদের কী করা উচিত? কাঁদবো নাকি পাশের বাড়ির জ্যাঠির মতো মুখ টিপে হাসবো বুঝতে পারছিনা।
দাদীর কথা মনে করে এই মুহূর্তে আমি নষ্টালজিক, আপনারা কিছু একটা করতে পারেন।

Saturday, November 9, 2019

ইমাম আলি (আঃ)

প্রশ্ন -
যদি ইমাম আলি (আঃ) ই আল্লাহ কতৃক মনোনীত ও রাসুল (সাঃ) ঘোষিত বৈধ খলীফা / ইমাম / উত্তরসূরী হয়ে থাকেন , তাহলে কেন নিজের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পরে তাঁর স্থলে বসে থাকা খলীফাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেননি / অস্ত্রধারণ করেননি / যুদ্ধ ঘোষণা করেননি ?

জবাব -

নবীকরীম (সাঃ) এর উত্তরাধিকারী / ইমাম / খলীফা কেবলমাত্র ইসলামি সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় । যদিও হযরত আবুবকর - ওমর ইসলামি সাম্রাজ্যের অধিপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তথাপিও ইমাম আলি (আঃ) তাঁর বৈধ খেলাফাত / ইমামাতের পদ থেকে বঞ্চিত ছিলেন না ।
কিন্ত এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে , কেন ইমাম আলি (আঃ) তদানীন্তন খলীফাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেননি ?
এই প্রশ্নের অনেকগুলি কারন আছে ।
তার মধ্য থেকে এখানে কতকগুলি দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্‌ ।
কারন -
আমরা পবিত্র কোরআন থেকে পেতে পারি । যখন হযরত মুসা নবী (আঃ) ৪০ রাতের জন্য বনী ইসরায়েলদের থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন তখন তিনি নিজ ভাই হযরত হারুন (আঃ) কে তাঁর উত্তরাধিকারী নিয়োগ করে যান ।
কিন্ত মুসা (আঃ) এর বিদায় নেওয়ার সাথে সাথে জনগণ তাঁর আদেশ-উপদেশ ভুলে বসে এবং সত্যপথ হতে বিচ্যুত হয়ে পড়ে ।
যাইহোক , এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মুসা (আঃ) ও তাঁর উত্তরাধিকারীর মধ্যকার কথোপকথন আমরা পবিত্র কোরআন হতে যা জানতে পারি -
" --- মূসা বললেন , হে হারুন , তুমি যখন তাদেরকে পথ ভ্রষ্ট হতে দেখলে , তখন তোমাকে কিসে নিবৃত্ত করল ? আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে ? তবে তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করেছ ? তিনি বললেন , হে আমার জননী-তনয় , আমার শ্মশ্রু ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ কর না , আমি আশঙ্কা করলাম যে , তুমি বলবে , তুমি বনী-ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা স্মরণে রাখনি --- ।"
সূরা - ত্বাহা , আয়াত ৯২-৯৪ ।
উপরোল্লিখিত আয়াতগুলি থেকে প্রতীয়মান হয় যে , হযরত হারুন (আঃ) কেন পথভ্রষ্ট , সত্যবিচ্যুত জনগণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি ।
কারন এটাই ছিল যে , যদি হযরত হারুন (আঃ) অস্ত্রধারণ করতেন তাহলে বনী ইসরায়েলের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ-দ্বন্দ্ব-অনৈক্য-হানাহানি ঘটত । আর এই প্রকাশ্য ফেতনার দরুণ সকলেই তাঁকে অভিযুক্ত করত ।
প্রসিদ্ধ হাদিস অনুযায়ী মহানবী মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর নিকট হযরত আলী (আঃ) স্থান ঠিক ঐরূপ , যেরূপ মুসা (আঃ) এর নিকট তাঁর ভাই হারুনের (আঃ) স্থান ছিল , শুধুমাত্র ব্যতিক্রম এটাই যে রাসুল (সাঃ) এর পর আর কোন নবী রাসুল আসবে না । এখান থেকে অনুমান করতে অসুবিধা হয় না যে , কেন সশস্ত্র কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ইমাম আলি (আঃ) সম্পূর্ন নীরব ছিলেন ?
কারন তিনি জানতেন যে , তিনি যদি তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করতেন তাহলে দ্বীনে ইসলাম এবং নব্যগঠিত ইসলামি সাম্রাজ্য এক নিমেষেই ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়ে যেত ।
ঐযুগের বহিঃশত্রুরা ইসলামকে ক্ষতিসাধন করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনাতে লিপ্ত ছিল ।
এমতাবস্থায় , তরবারি উন্মোচনের অর্থ মুসলমানদের মধ্যে ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধে বেঁধে যাওয়া ।
সদ্য ইসলাম কবুল করা অনেকেও এই সুযোগে যুদ্ধে নিহত নিজ পরিজনের প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হত । সেক্ষেত্রে মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ , দ্বন্দ্ব , ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা প্রকাশ্যে ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করত । ফলে মুসলমানেরা দূর্বল হয়ে পড়ত । আর এই দূর্বলতার সুযোগে ফাঁদ পেতে থাকা বিজাতীয় শত্রুরা খুব সহজেই ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে ধ্যুলিস্যাৎ করে দিত ।
ইতিহাস সাক্ষী , মহানবী (সাঃ) এর পরে সবচেয়ে বেশী যিনি ইসলামের খেদমত করেছেন তিনি হলেন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ) ।
আলী (আঃ) এর তলোয়ারের নিকট ইসলাম আজও ঋণী । এটা বলা মোটেও অতিরঞ্জিত করা হবে না যে , ইসলামের চারাগাছটি রোপণ করা হয়েছিল হযরত আলী (আঃ) এর গৃহেই ।
হযরত আলী (আঃ) এর পিতা যরত আবু তালিব (আঃ) ইসলাম প্রচার ও প্রসারে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করে যাচ্ছিলেন । ইসলামেরই স্বার্থে ইমাম আলী (আঃ) বহুকষ্টে নির্বাসনের কঠিন জীবনগুলি অতিবাহিত করেছেন । ক্ষুধার্ত থেকেছেন কখনও বা ঘাস / গাছের পাতা খেয়ে নিজের ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করেছেন । তারপর নিজের পুরো জীবনটাকেই ইসলামের স্বার্থে উৎসর্গ করে দিয়েছেন ।
অতঃপর মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পরে তাঁর এই ধৈর্যধারণের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে কঠিন ধ্বংসাত্মক পরিণাম থেকে বাঁচিয়েছেন ।
এখানে এই কাহিনীটির উল্লেখ করা মনে হয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না -
একই শিশুর দাবী নিয়ে যখন দুইজন নারীর মধ্যে কলহ বেঁধেছিল এবং কোনমতেই সমাধান করা যাচ্ছিল না যে , আসলেই শিশুটি কার ।
তখন জল্লাদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তীক্ষ্ণ তলোয়ার দিয়ে শিশুটিকে দুটুকরো করে দিতে ।
তখন সেই শিশুর প্রকৃত মা কেঁদে উঠেছিল এবং আর্তনাদের সুরে এই কাজ হতে বিরত থাকতে বলেছিল । (প্রকৃত মা পেয়ে গেলেন)
প্রকৃত মা শিশুটিকে অন্যের / বিজাতীয় লোকের নিকট দিয়ে দিতে রাজি কিন্ত শিশুটির কোন ক্ষতি দেখতে নারাজ ।
এই ঘটনা , ইমাম আলি (আঃ) এর ঐসময়ের ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যশীল ।
প্রকৃতই তিনি চান নি কষ্ট করে তিলে তিলে গড়ে ওঠা ইসলাম কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হোক । অন্যথায় জনগণ আজও অবধি তাঁকে এই বলে অভিযোগ / দোষারোপ করত যে , নিজের ক্ষমতা দখলের জন্য হযরত আলী (আঃ) ইসলামকে ক্ষতিসাধন / ধ্বংস করে দিয়েছেন । (নাউজুবিল্লাহ)
তাছাড়া ইমাম আলি (আঃ) মহানবী (সা) কর্তৃক বিশেষভাবে নির্দেশিত ছিলেন , ইসলামের স্বার্থে ঐসব ব্যক্তিদের বিরুদ্বে যুদ্ধ না করতে ।
এই ধরনের নির্দেশ ও উপদেশ মহানবী (সাঃ) তাঁর কতিপয় সাহাবাদেরকেও দিয়েছেন । মহানবী (সাঃ) এর সাবধান বাণী ছিল এবিষয়ে ।
এখানে আর একটি বিষয় উল্লেখ্য , অবৈধ ঐসব খলীফারা প্রকাশ্যে ইসলামের বিরোধিতা করেনি যেমনটি ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া (লানত) করত ।
সুতরাং ইমাম আলি (আঃ) নিজ ধৈর্যশক্তির কঠিন পরীক্ষা দিলেন ।
এবং সেইসাথে নবী (সাঃ) এর প্রকৃত খলীফা / উত্তরাধিকারী হিসাবে নিজ দায়িত্ব পালন করে চললেন । যদিও মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পর থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত ইসলামি সাম্রাজ্যের ক্ষমতা তাঁর নিকট থেকে অবৈধ ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল , তথাপিও বৈধ খলীফা / উত্তরাধিকারী হিসাবে তাঁর দায়িত্ব যথারীতি পালন করে যাচ্ছিলেন ।
ইহার পরেও কেউ যদি পুনরায় এই যুক্তি প্রদান করেন যে , ইমাম আলি (আঃ) প্রথম তিন খলীফার সাথে যুদ্ধ ঘোষনা করেননি , সুতরাং প্রথম তিন খলীফা অবৈধ ছিলেন না বরং বৈধ ছিলেন ।
তাদেরকে আমি পাল্টা প্রশ্ন করব , যদি ইমাম আলি (আঃ) প্রথম তিন খলীফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন তাহলে কি আপনারা তাদেরকে অবৈধ বলে মানতে পারতেন বা মানতেন ?
আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই , ইমাম আলি (আঃ) কে মূয়াবীয়া এবং উম্মুল মোমেনীন মা আয়েশা - তালহা - যুবাইর সহ কতিপয় স্বনামধন্য সাহাবীর (!) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছিল ।
আপনারা কি ইমাম আলি (আঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এইসব সাহাবীদেরকে (!) ভ্রান্ত বা অবৈধ বলতে পারেন ??
পুনশ্চ , কারও মনে হয়ত একটি সংশয় থেকেই যেতে পারে , হযরত আলি (আঃ) মুসলমানদের মধ্যকার পারস্পরিক যুদ্ধের ঘোর বিরোধী ছিলেন ।
তাহলে কেন তিনি মূয়াবীয়া এবং মা আয়েশা প্রমুখের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ?
আমি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে , ইমাম আলি (আঃ) ঐ যুদ্ধগুলি শুরু করেননি ।
ইতিহাস সাক্ষী যে , মূয়াবীয়া , মা আয়েশা প্রমুখ ইমাম আলি (আঃ) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পদক্ষেপ গ্রহণ করে ।
ইতিহাস আরও সাক্ষী যে , যুদ্ধের সূচনা মা আয়েশা ও মূয়াবীয়ার তরফ থেকেই হয়েছিল ।
ইমাম আলী (আঃ) কে শুধু বাধ্য হয়েই মোকাবিলা করতে হয়েছিল ।
হাদীস শরিফে আল্লাহর নবী ফরমান
"আনা মাদিনাতুল এলমে ওয়াআলিও
বাবুহা"
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে
বর্ণিত। রাসূল (দঃ) ইরশাদ করেছেনঃ
আমি হলাম ইলমের শহর। আর আলী
(রাঃ) হল এর দরজা।
সুতরাং যে ব্যক্তি শহরে প্রবেশ করতে
চায়, সে যেন দরজা দিয়ে আসে।
{মুস্তাদরাকে হাকেম ..... {সহীহ
বুখারী, হাদিস নং-৬৯১৯, সুনানে আবু
দাউদ, হাদিস নং-৩৫৭৬, সহীহ মুসলিম,
হাদিস নং-৪৫৮৪}.
** আজ একই ভাবে মোহাম্মদী ইসলামে ডঃসৈ কুদরত এ খোদা মাঃআঃ তিনার " মহান মোর্শেদ " কে জগতবাসির কাছে প্রতিষ্ঠিত করা ও তিনার দাওয়াত পৌছানোর জন্য ধর্যের সাথে ,সামাজিক ও যান্ত্রিক আঘাত এর পর আঘাত স্বয্য করে, অঘাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
আশা করি যে , দীর্ঘ দিনের লালিত একটি বিভ্রান্তির রহস্য জাল থেকে পরিস্কার হতে পেরেছেন ।
সকলেই ভাল ও সুস্থ থাকুন 

Wednesday, November 6, 2019

কোথা থেকে আমাদের আগমন, কোথায় আমাদের গমন
একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন
অনেক অজানা রহস্য উন্মোচিত হবে !
একটু চিন্তা করুন
কোথায় থেকে আমাদের আগমন, কোথায় আমাদের গমন, এ ব্যাপারে আমরা খুব বেশি চিন্তা করিনা ।
মৃত্যুর পর কেয়ামত পর্যন্ত আমাদেরকে যেখানে অবস্থান করতে হবে, তার জন্য আমাদের প্রয়োজন আমরা যে ভাবে যে ত্বরিকা মোতাবেক ধর্ম পালন করি তা বিশুদ্ধভাবে জেনে পালন করা এবং জানার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করা । এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান অর্জন করতে হলে কুরআন হাদীসের আলোকে আমাদেরকে অধ্যয়ন করতে হবে, গবেষণা করতে হবে ।
সূফী সাধনায় সাধকের জন্য যে সমস্ত ধাপ গুলো রয়েছে তা বড়ই বিশাল ।
সুফী সাধনায় পাঁচটি ধাপ রয়েছে। যথা-শরীয়ত, তরীকত, মারেফত, হাকিকত, ওয়াহ্দানিয়াত । শরীয়ত ছাড়া বাকী চারটি ধাপকেই তরীকতের পর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য করা হয় । কুরআন হাদিসের আলোকে সুফী সাধকগণ সুফী সাধনায় এই পাঁচটি ধাপ সঠিকভাবে অতিক্রম করতে পারলে সুফী সাধনার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয় বলে উল্লেখ রয়েছে ।
সূফী সাধনার প্রথম ধাপ শরীয়ত : শরীয়ত শব্দটি ‘সারয়া’ শব্দ থেকে উদ্ভুত । ‘সারয়া’ শব্দের আভিধানিক অর্থ সহজ সরল পথ, প্রধান সড়ক ইত্যাদি । আবার শরীয়ত শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রকান্ড নদী, প্রবাহিত জলস্রোত, বৃহত্তম জন সড়ক প্রভৃতি । ইসলামের পারিভাষিক অর্থে শরীয়ত হলো কুরআন সুন্নাহ (হাদীস) ইজমা (মতৈক্য) এবং কিয়াস (অনুসরণ যোগ্য) প্রমানাদি দ্বারা গৃহীত ইসলামের জীবন বিধান বা জীবন ব্যবস্থা। অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত যেসব বিধি বিধান সমূহ হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর মাধ্যমে মানব জাতির প্রতি নির্দেশ ও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, একেই ইসলামের পরিভাষার শরীয়ত বলা হয়। ফেকাশাস্ত্রের ইমামগণ কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াস দ্বারা মানব জাতির জীবন ব্যবস্থা যেভাবে নির্দেশ ও নির্ধারণ করে গিয়েছেন তাকেই শরীয়ত বলা হয়। ইসলামের ফেকা শাস্ত্রে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এমনকি আন্তর্জাতিক জীবন বিধান পর্যন্ত নির্দেশিত হয়েছে । ইসলামের এই নির্দিষ্ট জীবন বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরজ কেননা পবিত্র কুরআনের ভাষায় ঘোষিত হয়েছে যে ইসলামের জীবন ব্যবস্থা ব্যতিরেকে অন্যকোন রকম জীবন ব্যবস্থাই আল্লাহর নিকট গৃহীত নয় ।
ইসলামে শরীয়ত ব্যবস্থা অনুযায়ী পরিচালিত হবার পিছনে যে উদ্দেশ্য তা হলো মানবজাতির ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন এবং আন্তর্জাতিক জীবনে যাতে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধান করা যায় এবং জীবনের স্থিতিশীলতা যাতে রক্ষা করা যায়।
শরীয়ত পন্থীদের জন্য শরীয়তের পাঁচটি কার্য সম্পাদন করা ফরজ। যেমন- ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত।
হজ্ব এবং যাকাত ধনীলোকদের জন্য ফরয সকলের জন্য নয়। শরীয়ত পন্থীরা যখন শরীয়তের যাবতীয় অনুশাসন মেনে চলে এবং শরীয়তের নির্দেশাবলী তাদের জীবনে বাস্তবায়িত করেন। শরীয়তের উদ্দেশ্যাবলী জীবনে বাস্তবায়িত যখন হয়ে উঠে তখনই তার জন্য শরীয়তের শিক্ষা থেকে তরীকতের দীক্ষা নেবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। শরীয়ত থেকে তরীকতে শিক্ষানেবার সাধনাকেই বলে সুফী সাধনার পথ । শরীয়ত ও ত্বরীকত একটি অপরটির সম্পূরক। তরীকত শরীয়তের বাহ্যিক ধর্মানুষ্ঠানগুলো আভ্যন্তরীন বিশুদ্ধতা, পরিপক্কতা, সার্থকতা ও সফলতা এনে তরীকত শরীয়ত পন্থীকে মঞ্জিলে মকসুদে পৌঁছে দেয় । যেহেতু তরীকত শরীয়ত পন্থীকে তার ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে বাঁচিয়ে রাখার উপায় এবং উপকরণ হিসাবে কাজ করে থাকে এজন্যই শরীয়ত পন্থীকে তরীকত ব্রতী হওয়া আবশ্যক। শরীয়ত পন্থীগণ যখন তরীকতের উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তখন তিনি তার মাশুকের সাথে মিলন কামনায় অধিকতর ব্যাকুল হয়ে উঠেন । মাশুকের সান্নিধ্য লাভে নিজেকে ধন্য করে নিতে চান । প্রেমময়ের প্রেমে প্রেমিকের মন প্রাণ তখন ছটপট করতে থাকে বিরহ ব্যথায় । তখন তিনি সারাক্ষণ আল্লাহ পাকের আরাধনায়-উপসনায় নিমগ্ন থাকতে ভাল বাসেন । তিনি তখন জাগতিক লোভ লালসা ও মায়ামোহ থেকে নিরাসক্ত হয়ে পড়েন । প্রেমিক তখন প্রেমময়ের প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান । তখন শরীয়ত তরীকত দ্বারা অর্থবহ হয়ে উঠে । তাই শরীয়ত হলো দেহ, তরীকত হলো প্রাণ বা আত্মা । ইসলামের বাহ্যিক জীবন ব্যবস্থার নাম শরীয়ত । আর আত্মার উৎকর্ষ সাধনের নাম ত্বরিকত ।
সুফী সাধনার দ্বিতীয় ধাপ তরীকত : তরীকত শব্দটি তারীক শব্দ থেকে উদ্ভূত। তারিক শব্দের আভিধানিক অর্থ পথ বা পথ চলা । আর তরীকত শব্দের অর্থ পথ চলার নিয়ম কানুন । শরীয়ত থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তরীকতের পথ ধরে মারফত, হাকীকত ও ওয়াহ্দানিয়াতের লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছা যায় তাকেই তরীকত বলা হয়। শরীয়ত থেকে মারেফতে উত্তীর্ণ হতে হলে যে পথ অনুসরণ করতে হয় সেই অনুসৃত পথের নামই তরীকত । তরীকতপন্থী সালেকের জন্য তরীকতের অজানা-অচেনা পথ চলার জন্য একজন দিশারী বা মুর্শিদের প্রয়োজন । মুর্শিদ তাঁকে পথ দেখিয়ে তাঁর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেন । আবার শরীয়ত পন্থীরা যখন তরীকতের পথে চলতে শুরু করেন তখন তাকে ছালেক নামে অভিহিত করা হয় । ছালেক মুর্শিদের নিকট থেকে মারেফত জগতের বহু রহস্য জেনে নেন । তরীকতের সাধন-ভজনকালে ছালেকের নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়, নানা প্রশ্নের উদ্ভব ঘটে, নতুন নতুন তত্ত্ব ও তথ্য উদ্ঘাটিত হতে থাকে। আশেক আর মাশুক মিলন স্বাদে আত্মবিভোর হয়ে যায় । মাশুকের মিলন বাসনা থেকেই হৃদয়ে সৃষ্টি হয় আল্লাহপাকের স্মরণ । ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) আল্লাহর প্রেমে সারাক্ষণ নিমগ্ন থাকতেন । তিনি আল্লাহর স্মরণে সর্বক্ষণ ডুবে থাকা অবস্থায় সংসার ধর্ম করতেন। প্রত্যেক সাহাবাই রাছুলের হাতে হাত রেখে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন । এই বায়আত নবুয়ত (রেসালত) রাষ্ট্রীয় খেলাফত প্রভৃতি অর্থেই বহাল ছিল । বায়আত এখন পীর-মুরীদ অর্থে বহুল প্রচলিত । রাসুলে পাক (সাঃ) ছিলেন সমগ্র মানব জাতির দিশারী । তাঁর দেয়া দিশা থেকেই ওলিগণ লাভ করতে পেরেছেন সত্যের সন্ধান, পেয়েছেন বেলায়তের উত্তরাধিকারী । তাই তরীকত পন্থীদের কর্তব্য কামেল পীর বা মুর্শিদের নিকট বায়েত গ্রহণ করা । তার মুর্শিদের দেওয়া ছবক নিয়মিত পালন করা । পীরের দেয়া শর্ত পালনে সক্ষম মুরিদকেই তরিকতের গোপন রহস্য সম্পর্কে মুর্শিদ অবহিত করে থাকেন । তরীকত হলো রিয়াজাত-মুশাহিদার পথ, আত্মসংযম ও কঠোর সাধন ভজনের পথ । তরীকত আলমে মালাকুতের অন্তর্ভুক্ত । আলমে মালাকুতকে বলা হয় খোদায়ী জগত, ফেরেশতা জগত, আত্মজগত । এই আলমে মালাকুতে প্রবেশ করতে হলে মানব চরিত্রের কতগুলো মন্দ স্বভাব পরিহার করিতে হয় । যথা-কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মিথ্যা, হিংসা- বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, আত্মঅহংকার, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, জাগতিক ধন সম্পদ, ঐশ্বর্য, কৃপনতা, লোক দেখানো উপাসনা, অবৈধ কার্যকলাপ মিথ্যা, প্রতারণা, পণ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো, ওজনে কম দেওয়া, ওজনে বেশি নেওয়া, অধিক মুনাফার আশায় পণ্যদ্রব্য গুদাম জাত করা, রাহাজানী, নরহত্যা, অপহরণ, মদ্যপান প্রভৃতি ।
তরিকতের প্রচলিত ৭ (সাত) আরকান এবং ৬ (ছয়) আহকাম রয়েছে ৭টি আরকান হলো
(১) আল্লাহকে জানার মত সময়উপযোগী জ্ঞানার্জন । (২) জাগতিক লোভ লালসা বিসর্জন । (৩) দুঃখ দৈন্যে ধৈর্য ধারণ (৪) আল্লাহ পাকের অনুগ্রহের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ (৫) হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভয়ভীতি রাখা (৬) আল্লাহর স্মরণে সর্বক্ষণ নিমগ্ন থাকা (৭) মুরাকাবার মাধ্যমে স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধ্যান ধারণায় মগ্ন থাকা ।
তরিকতের ৬ ছয় আহকাম হলো (১) আল্লাহর মারফত লাভ (২) দানশীলতা (৩) সত্যবাদিতা রক্ষায় অটল থাকা (৪) ভাগ্যলিপির উপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাস রাখা (৫) আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা বজায় রাখা । (৬) পাশব প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামরত অবস্থায় দৃঢ়পদ থাকা ।
এছাড়াও কম কথা, কম ঘুম ও কম খাবারে অভ্যস্ত হওয়া, নির্জন বাস করা । নৈতিক চরিত্রের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে আত্মিক পবিত্রতা অর্জন করাই ত্বরীকতের মুখ্য উদ্দেশ্য । সূর্য যেমন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সূর্যরশ্মি বা সূর্যের কিরণ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়ে পড়ি, অনুরূপভাবে মানব আত্মাও পাশব প্রবৃত্তি দ্বারা তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ।
সূফী সাধনার তৃতীয় ধাপ মারেফত : মারেফত শব্দটি উরফুন শব্দ থেকে উদ্ভূত । উরফুন শব্দের আভিধানিক অর্থ জানা, কোন বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করা। মারেফত শব্দের পারিভাষিক অর্থ জানা/শোনা ও নিজের অভিজ্ঞতা দ্বারা যে বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করা হয়, তাকেই মারেফত বলা হয়। তরিকত শাস্ত্রমতে মারেফত শব্দের বিশদ ব্যাখ্যা হল, বিশ্ব সৃষ্টির পরম সত্তা মহান আল্লাহ ও তাঁর সুবিশাল সৃষ্টি জগত এবং আপন সত্তাকে জানার নামই মারেফত । নিজ এবং নিরাঞ্জনাকে জানার নামই মারেফত।
হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে ‘‘মান আরাফা নাফচাহু ফাকাদ আরাফা রাববাহু অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেকে জানতে পেরেছে সে তার প্রভূকে জানতে পেরেছে ।
তরিকতের ভাষায় মারফত অর্থ নূরে মারফত বা নুরে এলাহী তথা মহান আল্লাহ্ পাকের জ্যোতিময় দীপ্তি, পরম জ্যোতিময় সত্তার পরিচিতি লাভ, পরম প্রেমময় মহান আল্লাহ্ পাকের পূত-পবিত্র নূরের সাথে পরিচিত হওয়াকেই মারেফত বলে । মারেফতের অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছতে হলে চারটি স্তর অতিক্রম করা অপরিহার্য। (১) ইমান : অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন (২) তলব : অদৃশ্য বিষয় বস্ত্তর অনুসন্ধান কার্যে লিপ্ত হওয়া (৩) ইরফান : অদৃশ্য বিষয়বস্ত্ত সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা। (৪) ফানাফিল্লাহ : অদৃশ্য বস্ত্ততে উপনীত ও উন্নীত হওয়া । অর্থাৎ পরম প্রেমাম্পদের জ্যোতিময় সত্তার আলোকে নিজের ক্ষুদ্রতম সত্তাকে আলোকিত করে তোলা । মারেফতে পরিজ্ঞাত ব্যক্তিকে বলা হয় আরেফ বা সুফী । এই পথ অনুসরণ করেই মুসলিম বিশ্বে অগণিত সুফীর আর্বিভাব ঘটেছে । আশেক আর মাশুকের মিলন কামনাই সুফি সাধনার মর্মকথা । অদৃশ্য বস্ত্তর ধ্যান ধারণায় রত অবস্থায় সাধনা করতে করতে সুফীর হৃদয়ে এমন এক অবস্থায় সৃষ্টি হয় যা তত্বজ্ঞানের নেত্র দ্বারা সৃষ্টি জগতের পরম সত্বা মহান আল্লাহর সিফাতকে প্রত্যক্ষভাবেই অনুভব এবং উপলব্ধি করতে সক্ষম হন । এইরূপ নির্ভুল উপলব্ধির নামই ইরফান, বা আত্মোপলব্ধি জ্ঞান । সুফিগণ সাধনা বলে যখন জ্ঞানের চরম পরম সীমায় উন্নীত হয়ে থাকেন তখন তারা মহাজ্ঞানী রাববুল আলামীনের প্রদত্ত জ্ঞান প্রভায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেন । তখন তাদের ক্ষুদ্রতম জ্ঞানসত্তা মহান জ্ঞানসত্তায় মিশে কোন প্রকার ব্যবধানে দেখতে পান না । সৃষ্টি জগতের বিভেদ রেখা ভুলে গিয়ে সব একাকার দেখতে পান এরই নাম ফানাফিল্লাহ বা আল্লাহতে ফানা হয়ে যাওয়া । মারেফত হলো আল্লাহর জরাতে বিচরণ ধর্মী একটি জগত । এই জগত চেনা-অচেনা , জানা-অজানা, আলো-আঁধার মেশা একটি দ্বিধা-দ্বন্দের জগত । এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মাঝেই পরম প্রেমময়ের দর্শন লাভের আকাঙ্খা এবং তাকে জানার ব্যাকুলতা বার বার হানা দিতে থাকেন । এমনিভাবে মুর্শিদের সাহায্যে মারেফতের গোপন রাজ্যে প্রবেশ করে আত্ম বিভোর হয়ে থাকেন । যে সত্যে তিনি উপনীত হন, সে পরম সত্যের সন্ধান তিনি লাভ করে থাকেন, আর নিজের চিন্তা ভাবনার মধ্যে সীমিত থাকেন, নিজে নিজেই বহু কিছু উপলব্ধি করতে থাকেন যা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না । সেই পরম সত্যের ধারণা প্রকাশ করা ভাষাজ্ঞানের বর্ণনাতীত । কেননা তা অনির্বাচনীয়, অপূর্ব, অপরূপ যা অব্যক্ত, অনন্ত ও অসীম। মারেফতে উত্তীর্ণ হতে পারলে আত্মদর্শন লাভ করা যায় পরম সত্তার পরিচিতি পাওয়া যায়। দেহের মাঝে দেহীর অবস্থান, তাই আত্মতত্ত্ব নির্ভর করছে দেহ তত্বের উপর । দেহতত্বের উপর বিজয়ী হতে পারলেই আত্মতত্বে উন্নীত হওয়া যায় । আত্মতত্বের উপনীত হতে পারলেই পরম তত্বের বা পরম সত্তায় উপনীত হওয়া যায় ।
সুফী সাধানায় চতুর্থ ধাপ হাকীকত : হাক্কুন শব্দ থেকে হাকীকুন এবং হাকীকুন শব্দ থেকে হাকীকত শব্দটির উৎপত্তি। যার আভিধানিক অর্থ বাস্তব, ধ্রুবসত্য, পরম সত্তা, সার বিষয়বস্ত্ত ইত্যাদি । ইহা খোদাতায়ালার গুণবাচক বিশেষণের মধ্যে একটি বিশেষণ ও বটে। হাকীকুন শব্দের আভিধানিক অর্থ-পরম সত্য বিষয়, যে পরম সত্য বিষয় সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হওয়া যায় তাকেই হাকীকত বলা হয় । আবার তরীকতের অভিষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হবার নামই হাকীকত । ইহা সুফী সাধনার চতুর্থ স্তর বা ধাপ । সুফি বা আরেফ এই স্তরে উত্তীর্ণ হতে পারলে পরম সত্যের সন্ধান ও স্বরূপ লাভ করিতে পারেন, তথা আত্মপলব্ধি করতে সক্ষম হন । এই পরম প্রেমাম্পদের ভালবাসায় নিজের অস্তিত্ববোধ হারিয়ে যায় । মহান রাববুল আলামীনের সুমহান সত্তায় আত্মবিলোপিত হয়ে পড়েন । ইহা ফানাফিল্লাহের স্তর । এই স্তরে উন্নীত আশেক তার মাশুকের প্রেমে উম্মাদনায় আত্ম বিভোর হয়ে পড়েন। একটি চিরন্তন অস্তিত্বের সন্ধান লাভ করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে পারস্য কবি দেওয়ান হাফেজ বলেছেন, খোদার প্রেমে যে হৃদয় অনুরঞ্জিত, অবধারিত মরণেও হয়না তাঁর মরণ, সে যে চির জীবিত চির অমর। ফানাফিল্লার স্তর থেকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর ন্যায় স্বাভাবিক কর্মজীবনে রত থাকার নামই বাকাবিল্লাহ, বাকাবিল্লাহর প্রকৃত অর্থ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবন আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত করা, তারই ন্যায় ধর্মে কর্মে সুস্থিত থেকে কেবল হৃদয়ে প্রেমময়ের চিরন্তন প্রেমে জাগিয়ে তোলা। খোদা পাকের সন্তুষ্টি লাভ করা ছাড়া সুফী জীবনে দ্বিতীয় কোন উদ্দেশ্যে নিহিত থাকেনা। খোদা পাকের গোপন প্রেমে যে প্রেমিক মগ্ন তাঁরই অবস্থান হাকিকতে। অর্থাৎ সত্যের সন্ধান লাভ করার নামই হাক্কিকত। নিখিল সৃষ্টির অন্তরালে যে পরম সত্য বা সত্তা লুকিয়ে আছে, সেই পরম সত্তায় উত্তীর্ণ হবার নামই হাকিকত।
এই পরম
সত্যের উপলব্ধি জ্ঞান লাভ হয় পাঁচ প্রকার অনুসন্ধান পদ্ধতি দ্বারা যেমন (১) বুদ্ধি (২) অভিজ্ঞতা (৩) বিচার বিশ্লেষণ ৪) বিবর্তন মুখী মতবাদ (৫) প্রজ্ঞাবাদ।
ছালেক শরীয়তগত জ্ঞান, তরিকতগত অভিজ্ঞতা এবং মারেফতের পরিচিতি গত জ্ঞানের সমন্বয়ে আধ্যাত্মিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন মৌলজ্ঞান লাভ করে থাকেন। ফানাফিল্লাহ মানে হাকীকতে উন্নীত হয়ে তার নিজের বুদ্ধি জ্ঞান, অনুভূতি ইত্যাদি মহান সত্তার হারিফে ফেলা। যেমন এক বিন্দু জল মহাসাগরে মিশে গেলে যেমন হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে-ওহে পরিতৃপ্ত আত্মা তোমার প্রভুর প্রতি সন্তুষ্টি চিত্তে এবং সন্তুষ্টি প্রাপ্ত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন কর আর আমার প্রকৃত দাসদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ কর। হাকিকতে উত্তীর্ণ সাধককে কামেল (পরিপূর্ণ মানব) বা আরেফ বিল্লাহ বলা হয়। রাসুলূল্লাহ (সাঃ) বলেন হাকীকত আমার অবস্থান সমূহ। হযরত শাহ বু আলী কলন্দর বলেছেন, হে সাধক, যতদিন পর্যন্ত তোমার আমিত্ববোধ বাকী থাকবে ততদিন পর্যন্ত তুমি তাঁর পরম বন্ধুতে পরিণত হতে পারবেনা, আর যখন তোমার আমিত্ববোধের বিলুপ্তি ঘটবে, তখনই তুমি আল্লাহর পরম বন্ধুতে পরিণত হতে পারবে। মুরাকাবা মুশাহেদার মাধ্যমে আল্লাহ পাকের একাত্ববোধ মিশে যাওয়া সম্ভব হয়। এই স্তরে উত্তীর্ণ সাধককেই সবার আগে মরতে হয়, হিসাব নেবার আগে হিসাব নিতে হয়। পরিশেষে বলতে চাই হাকিকত হলো একমাত্র আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কোন অস্থিত্ববোধ হৃদয়ে না থাকার নামই হাকিকত।
সুফী সাধনার পঞ্চম ধাপ ওয়াহ্দানিয়াত :ওয়াহেদুন শব্দ থেকে ওয়াহ্দানিয়াত শব্দের উদ্ভব ঘটেছে। ওয়াহেদ শব্দের অর্থ এক, আবার ওয়াহ্দানিয়াত শব্দের অর্থ একত্ব, যার দ্বিতীয় নাই। ওয়াহ্দানিয়াত ও হাকিকত একই বিষয়। আল্লাহর একত্ব অনাদি, অনন্ত যেই সত্তাতে কোন সংমিশ্রণ নেই, ইহা তরিকত সাধনায় সর্বশেষ স্তর। সালেক তরিকতের সকল পথ পেরিয়ে যেখানে এসে উপনীত হন। এটাই তাঁর পথ চলার অভিষ্ট লক্ষ ওয়াহদানিয়াত আলমে হাহুতের অন্তভূক্ত। আলমে হাহুত আল্লাহ পাকের নির্জন অবস্থানের নাম। তিনি চিরঞ্জীবি প্রকৃতি শূন্য অবস্থায় অবস্থান করছেন, তিনি নিঃসঙ্গ অবস্থায় আপনাতে আপনি আত্মা বিভোর ও স্থিতিশীল। আদিতে একমাত্র তিনিই ছিলেন আর কেউ ছিল না। ওয়াহদানিয়াতে উত্তীর্ণ ছালেক বা আরেফ সব কিছু বিলীন করে দিয়ে, নিজেকে ভুলে গিয়ে আল্লাহর সত্তায় স্থিতি লাভ করে থাকেন। এ অবস্থা সম্পর্কে মাওলানা রুমী বলেন তুমি যদি নিজেকে বিলীন করে দিয়ে আল্লাহর তাওহীদে অবস্থান করতে পার তাহলে তুমি তার পরম বন্ধু রূপে তাঁরই সত্তায় অবস্থান করতে পারবে।
হুজুর পাক (সাঃ) নবী হওয়ার পূর্বে ২৫ বৎসর বয়স থেকে ৪০ বৎসর বয়স পর্যন্ত আরবের হেরা পর্বতের গুহায় একাধারে বিরতিহীনভাবে ১৫ বৎসর গভীর সাধনার পরে নবুয়ত লাভ করেন। এরপর থেকে আল্লাহর বাণী শরীয়ত, তরিকত , মারেফত, হাকিকত, ওয়াহ্দানিয়াত পৃথিবীতে জারী হয়। অতএব, আল্লাহর রাসুল বেলায়তের সর্ব উচ্চ মোকাম অর্জন করে যে বিধান রেখে গেছেন তাই হলো শরীয়ত, তরীকত, মারফত, হাকিকত ওয়াহ্দানিয়াত। কাজেই ইমান, নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাত ইত্যাদি পালন করতঃ কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী কামেল পীরের নির্দেশিত পথে তরীকত কাজের অনুশীলন করলেই আল্লাওয়ালা হওয়া যায়।
আলকোরআনে সুরা মায়েদাতে উল্লেখ আছে- তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকের এক একটি চলার পদ্ধতি এবং বিশেষ পথ রয়েছে।

আলী

রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেনঃ-
আদমের সৃষ্টির চার হাজার বছর আগে আল্লাহর সান্নিধ্যে আমি আর আলী একই নূর ছিলাম। তারপর যখন আল্লাহ্ আদম'কে সৃষ্টি করলেন তখন সে নূর'কে দুই টুকরো করলেন। তার এক টুকরো হলাম আমি আর অপর টুকরো হলো আলী।
(ফাযায়িলুস সাহাবা ২:৬৬২/১১৩০, আর রিয়াদুন নাদরাহ ৩:১২০)
" নবীর পরে রেসালতের কাজে আলী হলেন তাঁর একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি। মহানবী জীবনের প্রথম ও শেষতম হজ্জ্ব করে জন্মভূমী মক্কা'কে চিরবিদায় জানিয়ে, মদিনা যাবার পথে ১৮ই জিলহজ্জ তারিখে গাদি'রে খুম নামক ইস্থানে। সোয়া লক্ষ অনুসারীর সামনে আলী'কে পরবর্তী নেতারূপে তুলে ধরেন। সেদিন' ওমর, আবু বক্কর, ওসমান'সহ সবাই লাইন ধরে মাওলারূপে একে একে আলীর(আঃ) হাতে হাত রেখে বায়াত গ্রহন করেছিলেন। তার পূর্বে উপস্থিত জনতার সামনে মঞ্চে আলীকে(আঃ) দুই বাহু ধরে শূন্যে তুলে ধরে মহানবী(সাঃ) বলেছিলেন,আমি যার মাওলা আলী তার মাওলা। হে আল্লাহ্, তুমি তাকে বন্ধুরূপে গ্রহন কর' যে আলী'কে বন্ধুরূপে গ্রহন করে, তাকে শত্রুরূপে গ্রহন কর' যে তাঁর সাথে শত্রুতা করে, এবং সাহায্য কর তাঁকে যে সাহায্য করে, এবং লাঞ্চনা দাও তাঁকে যে লাঞ্চনা দেয়"।।
সূত্রঃ- তিরমিজী, ২য় খন্ড-পৃষ্ঠা-ঃ ২৩৩, আল্ বেদায়া ও নেহায়া, ৭ম খন্ড-পৃষ্ঠাঃ- ২৪৪"।

একটি সতর্কতা মূলক পোস্ট

No photo description available.


16 বছরের একটি ছেলে সম্প্রতি মারা গেছে। তিনি এবং তাঁর ভাই একই ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন।

গভীর রাতে তার বমি পেয়ে উঠল। তার ভাই বলেছিলেন যে তিনি তার হাতটি তার মুখের কাছে ধরে বাথরুমে গিয়েছিলেন।
বমি করার পরে শ্বাস নিতে অসুবিধার অভিযোগ করেন তিনি। পরে মারা যান।
..... এখন ডাক্তার ঘোষণা করেছেন যে তিনি বিছানা বা গালিচা নষ্ট না করার জন্য টয়লেটে পৌঁছা পর্যন্ত তিনি তার বমি ধরে রেখেছিলেন, এবং এটাই তাকে দম বন্ধ করেছিল। বমিটি সরাসরি তার বাতাসের পাইপ এবং শ্বাস প্রশ্বাসের ট্র্যাকের মধ্যে চলে যায়।
..... সুতরাং, আমাদের উচিত বাচ্চাদের যেখানে বমি লাগে সেখানে করতে দেওয়া। বাথরুমে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের কখনই তাদের বমি ধরে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়। কার্পেটটি সর্বদা ধুয়ে নেওয়া যাবে তবে আমরা কোনও শিশুকে ফিরে পেতে পারি না একবার শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে।

শুধু শিশু নয় বড়দেরও এমন হতে পারে..
...
দয়া করে এই বার্তাটি পাস করুন। এটি তথ্যবহুল এবং এটি একটি জীবন বাঁচাতে পারে।

Sunday, November 3, 2019

নিজেকে জানোঃ তুমি ছাগু কেমন ছাগু!  ছাগুদের অবশ্যপাঠ্য





প্রিয় ছাগু, আজ বাংলাদেশের জন্মদিন। এই দিনে তুমি কতো বড়ো বেজন্মা তা জানার অপূর্ব সুযোগ নিয়ে এসেছে আলিম আল রাজি। সুযোগ হেলায় হারিয়ো না।


মগবাজার থেকে তো বেশ ভালোই সাপোর্ট পাচ্ছো। প্রশিক্ষনও পাচ্ছো নিয়মিত। কিন্তু এতে কি তোমার পারফরম্যান্স-এর উন্নতি হয়েছে? নাকি উলটা অবনতি হয়েছে?
এই পোস্ট-টির মাধ্যমে তুমি তোমার পারফরম্যান্স সম্পর্কে একটা ধারনা নিতে পারবে।
তাহলে যাওয়া যাক মূল পোস্টে।

নির্দেশিকাঃ
নিচে কয়েকটি প্রশ্ন আছে। প্রতিটা প্রশ্নের জন্য আছে তিনটি করে উত্তর। তোমাকে এই উত্তর গুলোর মধ্য থেকে একটা চয়েজ করতে হবে। তারপর পোস্টের শেষের দিকে থাকা মার্ক্স-এর সাথে মিলাতে হবে। তারপরেই তুমি বুঝে যাবে ছাগু হিসেবে তুমি কোন অবস্থায় আছো।
শুরু করা যাক...

১। ৫ টা রাজাকারের নাম বলো।
ক- রাজাকার! এটা কি জিনিষ?
খ- আমার তো তখন জন্মই হয় নি!
গ- দেখুন। আমাদের প্রথমে ঐ সময়কার পরিস্থিতিটা বুঝতে হবে। এই প্রসঙ্গে আমি এখনো নিরপেক্ষ। ব্লা ব্লা ব্লা

২। গোলাম আজম সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলো
ক- কি আর বলবো! এই মহান নেতা সম্পর্কে ভাবলেই পায়জামা ভিজে যায়! উনারে নিয়া চুদুর বুদুর মার্কা কিছু বললে কল্লা ফেলে দিবো।
খ- একজন ভালো মানুষ। তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ দেখাতে পারবে না।
গ- উনি কে তা আমি বিচার করার কে? মহাকালই উনার অবদানের কথা বিচার করবে।

৩। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তোমার কি অভিমত?
ক- কৈ? কিসের মুক্তিযুদ্ধ? সব তো ছিলো গন্ডগোল আর ভারতের চক্রান্ত।
খ- সংক্ষেপে বলা সম্ভব না। পুরো প্রেক্ষাপট আলোচনা করতে হবে।
গ- হুম। মুক্তিযুদ্ধ ভালো জিনিষ। বেশ ভালো।(মুখে ভাবের ছাপ)

৪। ফাকিস্তান রাষ্ট্রটি সম্পর্কে তোমার কি অভিমত?
ক- পাকিস্তান না বলে ফাকিস্তান বলায় আমার পিতৃনাভুতিতে আঘাত লেগেছে।
খ- কোন সময়ের সাপেক্ষে বলবো? ৭১? না ২০১১?
গ- দেখুন। মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে আপনি বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের মধ্যে খুব বেশী মোটা বিভাজন রেখা আকতে পারবেন না।

৫। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে তোমার মতামত কি?
ক- সব আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক চাল।
খ- অতীত টেনে এনে জাতীকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র।
গ- আগে আমাদের বুঝতে হবে বিচার কি নিরপেক্ষ হচ্ছে? আর নিরপেক্ষ হলে কতোটুকু হচ্ছে। ব্লা ব্লা ব্লা।

৬। তোমার প্রিয় ব্লগ কোনটি?
ক- ভয়েস অফ পাকিস্তান
খ- সোনা ব্লগ
গ- দেখুন। যেখানে আছে ভাষার চর্চা সেখানেই আছি আমি। কোন বিশেষ পছন্দ নেই। তবে সোনা ব্লগ ইদানিং ভালো করছে।

৭। পাকিস্তান ক্রিকেট দল সম্পর্কে তোমার কি অভিমত?
ক- আহ! উহ! উহু!
খ- অনেক ভালো ক্রিকেট খেলে।
গ- ক্রিকেট হলো ক্রিকেট। এখানে পাকিস্তান ক্রিকেট আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বলতে কিছু নেই।

৮। ২৬ মার্চ রাতে কি করেছো?
ক- ইয়াহিয়া খানের কথা চিন্তা করে স্বপ্নদোষ হয়েছে কালকে।
খ- আসলে ইতিহাস নিয়ে হুট করে আমি কোন কথা বলতে চাই না।
গ- কি আর করবো? ঘুমিয়েছি। এটা কি বিশেষ কোন রাত নাকি?

৯। ছাত্র শিবির সম্পর্কে তোমার কি অভিমত।
ক- আদর্শের সৈনিক।
খ- ছাত্রলীগ অনেক খারাপ।
গ- খারাপ কি!

১০। গোলাম আজমের মুখে মুতি। এ ব্যাপারে তোমার কি অভিমত?
ক- আপনে ভারতের দালাল। আপনে নাস্তিক। আপনে দুনিয়ার বদ।
খ- একজন সম্মানিত ব্যাক্তির মুখে আপনি মুততে পারেন না এভাবে।
গ- কোনভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।



নম্বরঃ
"ক" উত্তরের জন্য রয়েছে ২ নম্বর
"খ" উত্তরের জন্য ৪ নম্বর এবং
"গ" উত্তরের জন্য রয়েছে ৬ নম্বর


তোমার স্কোর ও ফলাফল

>>১০-২৫
তুই অতি নিম্ন মানের ছাগু। নিজে খা পো এটা এতো সহজে স্বীকার করতে নাইরে ছাগলা। তোর বাপরা কি এতো সহজে স্বীকার করে? তাদের দেখে শিখতে পারস না? মগবাজার তোরে হুদাই ট্যাকা দিতেছে।

>>২৫-৪০
তুমি আসলে একটা ছুপা ছাগু। কিন্তু জানোতো ল্যাঞ্জা ইজ আ টাফ থিং টু হাইড। মুচড়ামুচড়ি করে মুখ ঢাকলেও ল্যাঞ্জা ঠিকই বের করে দিছো। এবার যাও দূরে গিয়া মরো।

>>৪০-৬০
হে হে। সুশীল ছাগু যে! কিন্তু সুশীলরা সবার আগে ধরা খায় ছাগু মিয়া! “হতেই পারো তিনকোনা/ করবো তোমায় আজ ভুনা 
Image result for গোলাম আযম

Sunday, October 13, 2019

মোজাদ্দেদ কাকে বলে??


মোজাদ্দেদ কাকে বলে??

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি হযরত রাসুল পাক (সাঃ) হতে শুনেছি যেঃ "আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতের (মঙ্গলের) জন্য প্রত্যেক শতাব্দী শেষে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি দ্বীনকে তাজদীদ করবেন। " তাজদীদ অর্থ কোন জিনিসকে নতুন করা অর্থাৎ সংস্কার করা। এখানে দ্বীনকে নতুন করা - এর অর্থ দ্বীনে যে সকল কুসংস্কার বা বেদায়াত প্রবেশ করবে তা হতে তিনি দ্বীনকে মুক্ত করবেন। অর্থাৎ কোরআন ও হাদীসের নির্ধারিত সীমা রেখার মধ্যে মানুষকে আবদ্ধ করার চেষ্টা করবেন। যিনি এরূপ কাজ করেন তাকে বলা হয় "মোজাদ্দেদ "।
.
-আবু দাউদ শরীফ

আল্লাহর পরিচয়

আল্লাহর পরিচয় 

দুনিয়াতে থেকেই আমাদেরকে সাধনা করতে হবে কিভাবে আমরা রাসূলের পরিচয় লাভ করবো, আল্লাহর পরিচয় লাভ করবো। আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের পরিচয় লাভ করলে আমরা কামিয়াব হবো, আমরা বিজয়ী হবো।

We've to go through diligent spiritual meditation so as to we can experience the identity of the Prophet(SM),we can experience the identity of Allah in this very earthly life.Our ultimate success and victory surely lies in experiencing the identity of Allah and His Prophet(SM).
Image result for আল্লাহর পরিচয়

Saturday, October 12, 2019

মোর্শেদ

মোর্শেদ ঐ ব্যাক্তিকে বলে যিনি নিজে সাধনা করে আল্লাহ ও রাসুল (স:) কে পেয়েছেন, এবং তার অনুসারীদের আল্লাহ পর্যন্ত পৌছে দিতে সক্ষম।

Friday, October 11, 2019

সর্বকালের সর্বশ্র্রেষ্ঠ অনুসরনীয় ও অনুকরনীয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

হাদিসে কুদসিতে এরশাদ

হয়েছে,

"লাওলাকা লামা খালাক্তুল
আফ্লাক।"
অর্থাৎ "(হে হাবিব!)
আমি আপনাকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম
না।" (সিররুল-আসসার,
পৃষ্ঠা-৭০)
কুরআনে আল্লাহ্ এরশাদ
করেন,
"ওআমা আরসালনাকা ইল্লা- রাহামাতাল্লিল
আলামিন।"
অর্থাৎ
"আমি আপনাকে জগত-
সমূহের রহমত
হিসাবে প্রেরণ করেছি।" (সূরা- আল
আম্বিয়া; আয়াত-
১০৭) "আলম" শব্দ'টি এক
বচন
এর বহু বচন হল
"আলামিন"। "আলম"
বলতে একটা পৃথিবী-
কে বুঝায় আর "আলামিন"
বলতে সমগ্র পৃথিবী-
কে বোঝায়।
আর আল্লাহ্ হযরত রাসুল (সাঃ)- কে বলেছেন, "
"ওআমা আরসালনাকা ইল্লা-
রাহামাতাল্লিল
আলামিন।"( "আমি আপনাকে সমগ্র
জগত-সমূহের রহমত
হিসাবে প্রেরণ করেছি।")
কুরআনে আল্লাহ্ ফরমান,
"আল
হামদুলিল্লাহি রাব্বিল
আলামিন।"
অর্থাৎ, "সকল প্রশংসা আল্লাহ্-
তাআলার যিনি জগত-
সমূহের প্রতি-পালক"।
(সূরা-আল ফাতিহা-১)
অর্থাৎ, আল্লাহ্ যেমন
একটা পৃথিবীর জন্য নয় সমগ্র সৃষ্টি জগতের
মালিক, তদ্রুপ রাসুল
(সাঃ)- হলেন
সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য
রহমত। অথচ অন্য
নবীদের কে শুধু মাত্র
পৃথিবী নামক গ্রহের
জন্য, তাও নির্দিষ্ট
সম্প্রদায়ের জন্য
পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু হযরত রাসুল(সাঃ)
সারা জাহানের জন্য
প্রেরিত হয়েছেন।
যা কপনাতেও ভাবা যায়
না তিনি কতো বর
মহামানব। আমদের মাথার সাধারণ ব্রেইন
দিয়ে কখনোই হযরত
রাসুল(সাঃ)-এর
মর্যাদা বিচার
করতে পারব না । হযরত
রাসুল(সাঃ) বলেছেন, "মহিমান্নিত
আল্লাহ্
সর্ব-প্রথম আমার নূর
সৃষ্টি করেছেন।"
(তাফসীরে-রুহুল বয়ান,
২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৭০) রাসুল(সাঃ) আরো বলেন,
"আদম যখন কাদা মাটি-
তে ছিল তখনও
আমি নবী ছিলাম"। -(আল-
হাদিস)
আমরা জানি সর্ব-প্রথম আল্লাহ্ আদম(আঃ)-
কে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন,
অথচ হযরত রাসুল(সাঃ)-
কে আদম
সৃষ্টির বহু
পূর্বে আল্লাহ- তাআলা সৃষ্টি করেছেন।
সুতরাং রাসুল(সাঃ)-
হলেন নূরের তৈরি,
যেহেতু আদম(আঃ)- ই প্রথম
যাকে আল্লাহ্
মাটি দিয়ে বানিয়েছেন। এর
আগে আল্লাহ্
মাটি দিয়ে কাওকে তৈরি করেননি।
তাই হযরত রাসুল(সাঃ)
বলেছেন,
"আমি আদম(আঃ)-এর সৃষ্টির ১৪- হাজার বৎসর পূর্ব
হতে আল্লাহ্র
সম্মুখে নূর-
হিসাবে অবস্থান
করেছিলাম।"
(তাফসীরে-রুহুল বয়ান, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৭০)
***তাই রাসুল(সাঃ) হলেন
নূরের*** রাসুল(সাঃ)- শুধু
উম্মতে মোহাম্মদীর
জন্যই শাফায়াত-
কারী নন, তিনি সকল নবী- রাসুলদেরও
শাফায়াত-
কারী এবং সাক্ষীদাতা।
রাসুল(সাঃ) কোন নবী-
রাসুলদের
অনুমতি না দিলে তারা তাদের নিজ উম্মতের জন্যও
শাফায়াত বা সুপারিশ
করতে পারবে না। তাই
কুরআনে এরশাদ
হয়েছে, "বিচার
দিবসে আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে তাদের
একজন (নবী) সাক্ষী দাড়
করব
এবং আপনাকে [রাসুল
(সাঃ)] আমি তাদের
সত্তায়নকারী সাক্ষী হিসাবে আনয়ন করব।" (সুরা-আল নামল;
আয়াত-৮৯) তাই
চিন্তা করে দেখুন,
আমাদের দয়াল রাসুল
(সাঃ)-এর সম্মান-
মর্যাদা কতো বেশি। হযরত রাসুল(সাঃ)
ফরমান, আল্লাহ্-
তাআলা সর্ব-প্রথম আমার
নূর সৃষ্টি করেছেন,
আমি আল্লাহ্র নূর
থেকে আর সমগ্র সৃষ্টি - রাজি আমার নূর থেকে।"
তাইতো আল্লাহ্
হাদিসে কুদসিতে বলেছেন,
"আমি আমার
চেহারা মুবারকের নূর
দ্বারা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে সৃষ্টি করেছি।"
(সিররুল-আসসার, পৃষ্ঠা-৩)
আমাদের নবীজির
মর্যাদা কতো বেশি,
রাসুল(সাঃ)- আল্লাহ্র
কতো প্রিয়...... আল্লাহ্ বলেন, "হে রাসুল
(সাঃ)! নিশ্চয়ই
যারা আপনার
কাছে বায়াত গ্রহণ
করেছে, তারা আল্লাহ্র-
ই কাছে বায়াত গ্রহণ করেছে। তাদের
হাতের উপর
রয়েছে আল্লাহ্র হাত।
(অথচ সাহাবায়ে-
কেরাম দেখেছেন
তাদের হাতের উপর রয়েছে রাসুল(সাঃ)-এর
হাত) ।" (সূরা- আল
ফাতাহ-৪৮;
আয়াত-১০) আল্লাহ্
অরো বলেন,
"হে মাহবুব(সাঃ)! আপনি বদরের
যুদ্ধে যে কঙ্কর নিক্ষেপ
করেছেন,
তা আপনি নিক্ষেপ
করেননি; বরং আল্লাহ্
নিজেই নিক্ষেপ করেছেন।" (অথচ
সাহাবায়ে- কেরাম
দেখেছেন রাসুল(সাঃ)
বালি নিক্ষেপ করেছেন)
(সূরা- আল আনফল;
আয়াত-১৭) তাই দেখা যায় রাসুল
(সাঃ)-এর হাতই ছিল
আল্লাহ্র হাত।
তিনি যুগে যুগে এই
পৃথিবীতে আগমন
করে মানব- জাতিকে উদ্ধার
করে থাকেন। আর তাই
রাসুল(সাঃ)-হলেন
"হায়াতুন্নবি"........
ইবনে আব্বাস (রাঃ)-
হতে বর্ণিত। তিনি ফরমান, " হযরত
রাসুল(সাঃ)
নবীগণের পৃষ্ঠ-
দেশে বার বার জগতের
বুকে তাসরিফ গ্রহণ
করেছেন, পরিশেষে তিনি স্বীয়-
মাতা আমিনা(আঃ)-এর
কোলে তাশরিফ গ্রহণ
করেন।" (তাফসীরে-
দুররে মানসুর- ১৯ত্ম
খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৩২) তিনি যে সকল নবীগণের
সাথে ছিলেন তা আয়াত
দ্বারাই বোঝা যায়।
হযরত রাসুল(সাঃ) বলেন,
"আমি আদম সন্তানদের
প্রত্যেক যুগের উত্তম শ্রেণীতে প্রেরিত
হয়েছি; অতঃপর ওই
যুগে প্রেরিত
হয়েছি যে যুগে আমি বর্তমানে আছি।" (বুখারি শরীফ
১ম খণ্ড,
পৃষ্ঠা-৫০৩; মেশকাত- শরীফ-এর ৫১১পৃষ্ঠা,;
মুসনাদে-আহমদ ৯ম খণ্ড,
পৃষ্ঠা-২৫ & ২৬;
তাফসীরে মাজারি ১ম
খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৩৪) হযরত
রাসুল(সাঃ)- যে সব নবীর মাঝে ছিলেন,
তিনি যে নূরের
এবং আদম(আঃ) থেকে শুরু
করে এক লাখ ২৪-হাজার
নবি-
রাসুলদের সবার মাঝে যে তিনি ছিলেন
তা কুরআনের পরিষ্কার
দলিল-প্রমান
পাওয়া যায়। রাসুল
(সাঃ) যে সব নবীর
মাঝে ছিলেন এবং তিনি সব কিছু
প্রত্যক্ষ করেছেন
তা আল্লাহ্ "আলাম-তারা"
শব্দ টি দ্বারা প্রকাশ
করেছেন। আল্লাহ্
পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
"আলামতারা কাইফাফা আলা রাব্বুকা..........."
অর্থাৎ,
আপনি কি দেখেন নাই
আমি কিভাবে "আদ-সামুদ"
জাতি-কে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। এই
ঘটনা রাসুল(সাঃ)-এর
জন্মের
বহু আগের ঘটনা। রাসুল
(সাঃ)
যদি সেখানে উপস্থিত না থাকতেন,
তাহলে কিভাবে আল্লাহ্
বলেন
"আপনি কি দেখেন নাই" ।
আর এই "আলামতারা" অর্থ
"আপনি কি দেখেন নাই"। যখন আল্লাহ্ নবীদের
ঘটনা বর্ণনা করছিলেন
তখন
রাসুল(সাঃ)-কে উদ্দেশ্য
করে "আলামতারা"
অর্থাৎ, "আপনি কি দেখেন নাই"
শব্দটি ব্যবহার
করেছেন।
(বিঃদ্রঃ- কুরআনে ৩১-
বার আল্লাহ্
"আলামতারা" অর্থাৎ, "আপনি কি দেখেন নাই"
শব্দটি ব্যবহার
করেছেন) এতে স্পষ্ট
বোঝা যায়
হযরত রাসুল(সাঃ)-সকল
যুগে সকল নবি-রাসুলদের মাঝে ছিলেন, আছেন
এবং থাকবেন।
তাইতো তিনি বলেছেন,
"আমি আদম সন্তানদের
প্রত্যেক যুগের উত্তম
শ্রেণীতে প্রেরিত হয়েছি; অতঃপর ওই
যুগে প্রেরিত
হয়েছি যে যুগে আমি বর্তমানে আছি।"
তাই রাসুল(সাঃ)-হলেন
সৃষ্টি-জগতের
সর্বকালের, সর্ব-শ্রেষ্ঠ মহা-মানব...... ****রাসুল
পাক (সাঃ)-
যে সর্বকালের, সর্ব-
শ্রেষ্ঠ মহা-মানব
তা খ্রিস্টান-
বিধর্মীরা পর্যন্ত অকপটে স্বীকার
করতে বাধ্য
হয়েছেন। খ্রিস্টান ও
পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি:
প্রখ্যাত ইংরেজ
বৈজ্ঞানিক মি. এডওয়ার্ড টিম্বার
প্রৃথিবীর
মহাপুরুষগণের
মধ্যে শ্রেষ্ঠ ১৭ জন
মহাপুরুষের
নাম the faith and Favour পুস্তকে লিপিবদ্ধ
করেছেন।
তন্মধ্যে প্রিয় নবিজীর
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর নাম প্রথমে স্থান পেয়াছে। নোবেল
বিজয়ী চিন্তাবিদ
প্রখ্যাত সাহিত্যিক
জর্জ বার্নার্ডশ
রাখঢাক না করেই
বলে গিয়েছেন, বিশ্ববাসী!
যদি তোমরা নিজেদের
সমস্যা সমাধান
করতে চাও
এবং সর্বাঙ্গীন সুন্দর
জীবন ব্যবস্থা কামনা করো,
তবে বিশ্ব-সংসারের
নিয়ন্ত্রন ভার
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর হাতে ছেড়ে দাও।
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক
জোসেফ হেল বলেন,
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এমনই একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন,
যাকে না হলে বিশ্ব
অসম্পুর্ন
থেকে যেতো।
তিনি নিজেই নিজের
তুলনা। তাঁর কৃতিত্বময় ইতিহাস মানব জাতির
ইতিহাসে এক সমুজ্জল
অধ্যায়
রচনা করেছে।
আমেরিকার
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে­­ র
ইহুদী প্রফেসর জুল
ম্যাসারমান
বলতে বাধ্য হয়েছেন
যে,
সর্বকালের সর্বশ্র্রেষ্ঠ অনুসরনীয়
ও অনুকরনীয় ব্যক্তিত্ব
হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

★★★প্রচলিত ইসলাম বনাম মোহাম্মাদী ইসলাম আসলে এর সঠিক নাম করন কোনটি ?★★★

★★★প্রচলিত ইসলাম বনাম মোহাম্মাদী ইসলাম
আসলে এর সঠিক নাম করন কোনটি ?★★★

বিশ্বনবী সরওয়ারে কায়েনাত মুফাখ্খারে মওজুদাত হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) মানব জাতির মুক্তির জন্য যে ধর্ম প্রবর্তন করেছেন, তা-ই হলো মোহাম্মাদী ইসলাম। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছেঃ-ইসলামের স্তম্ভ হলো পাঁচটিঃ ১/ কালেমা ২/ নামায ৩/ রোজা ৪/হজ্ব ৫/ যাকাত। ( বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ পৃষ্টা - ১২) হযরত মুহাম্মাদ ( সঃ) এর - এ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ধর্মই হলো ' মোহাম্মাদী ইসলাম '। আদম ( আঃ) থেকে শুরু করে ঈসা ( আঃ) পর্যন্ত অসংখ্য নবি - রাসূল ইসলাম নামক এ শান্তির বার্তা পথ ভোলা মানুষদের কাছে পৌছে দিয়েছেন, এবং মুক্তির পথ সুগম করে মানুষ অনাবিল শান্তি লাভ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেনঃ-"নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর একমাত্র মনোনিত ধর্ম " ( সূরা আলে ইমরান - ৩: আয়াত: -১৯) অত্র আয়াতে আল্লাহ সকল নবী - রাসূলদের ধর্মকেই ইসলাম বলে অাখ্যায়িত করেছেন। তবে সকলের ধর্মের কর্ম কান্ড এক নয়, অর্থাৎ একেক জনের ধর্মের শরীযত একেক রকম ছিলো। এবং একেক নবীর উম্মতের কলেমাও একেক রকম ছিলো। যেমন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আদম শফিউল্লাহ,- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু নূহ নাবিইয়্যুল্লাহ,- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, ইত্যাদি। সর্ব শেষে আখেরী নবীর উম্মতের কালেমা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ( সঃ)। আখেরী নবীর আগমনের মাধ্যমে ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করে ( সূরা আল মাযেদাঃ৫:আয়াত:-৩) বিভিন্ন নবীদের ধর্মের শরীযত ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারনে বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীরকারকগন একেক নবীর ধর্মকে বা শরীযতকে একেক নাম করন করেন, যেমন শরীযতে আদম,বা দ্বীনে আদম, দ্বীনে নূহ,দ্বীনে ইব্রাহীম, ও দ্বীনে মোহাম্মাদী। যারই ফল শ্রুতিতে আইন শাস্ত্রে ইসলামী জীবন বিধান Mohamadan Law হিসাবে পৃথিবীময় স্বীকৃতি লাভ করেছে। মানে মোহাম্মদী আইন বা মোহাম্মদী শরীয়ত। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানা যায়,মোহাম্মদী ইসলামের স্বর্ণ যুগ ছিলো ৫৩ বছর। নবীজি ( সঃ) এর নবুয়তী জীবনের ২৩ বছর এবং খোলাফায়ে রাশেদীনদের ৩০ বছর। এ দীর্ঘ সময় ধর্ম মোহাম্মদী ইসলাম নামেই বহুল প্রচলিত ছিলো, কিন্তু উমাইয়া শাসনামল থেকে যখন ইসলামী খেলাফতের নাম পরিবর্তন করে উমাইয়া শাসন হিসাবে আখ্যায়িত করা হলো, তখন থেকে এ ধর্মের নাম 'মোহাম্মদী ইসলাম ' থেকে মোহাম্মদ নাম বাদ দিয়ে শুধু ইসলাম রাখা হয়, এবং তখন থেকেই উম্মতে মোহাম্মদী চক্রান্তের বেড়াজালে পতিত হয়। এবং কান্ডারী বিহীন ইসলাম পালন করে আজ আমরা মোহাম্মদী ইসলাম নাম শুনলে চমকে উঠি। অথচ দুনিয়াতে যত ধর্ম, মতবাদ, মাযহাব, তরিকা, ও যত আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হযেছে তা ঐ সব আদর্শ প্রবর্তকদের নামানুসারেই নাম করন করা হয়েছে, যেমন : প্রথমে হাদিস বিশারদগনদের নামে হাদীসের কিতাবের নাম করন করা, ১ / ইমাম বোখারীর নামে, বোখারী শরীফ, ২/ ইমাম তিরমিজির নামে, তিরমিজি শরীফ, ৩ আবু দাউদ শরীফ, ৫ / মুসলিম শরীফ, ৬ / ইবনে মাজা শরীফ, ইত্যাদি ইত্যাদি। তেমনি ভাবে তেমনি মাজহাবের ইমামদের নামেও স্বীয মাজহাবের নামকরন করা হয়, যেমন: ১/ হানাফী ২/ শাফেয়ী ৩/ মালেকী ৪/ হাম্বলী। তেমনি ভাবে, তরিকার ক্ষেত্রেও, ১/ ক্বাদরীয়া ২ / চিশতীয়া ৩ / নক্শবন্দীয়া ৪/ মোজাদ্দেদীযা। ইত্যাদি। বাংলাদেশেও ১/ জামায়েত ইসলাম ২ /হেফাজত ইসলাম, তাবলিগ জামাত, ৪ / দাওয়াতে ইসলাম,ইত্যাদি নামে ধর্মকে বিভক্ত করা হয়। কিন্ত আজব ব্যাপার,,, যখনই" মোহাম্মাদী ইসলাম" বলাহয় তখনি আমাদের তা বুঝতে ও চিনতে খুবই কষ্ট হয়। এজন্য সূফী সম্রাট ( মাঃ আঃ) হুজুর বলেন: যিনি আমাদের শান্তির ধর্ম " ইসলাম" দিলেন তার নামে ধর্মের নামকরন ( মোহাম্মদী ইসলাম) করার অযৌক্তিকতা কোথায়? কারন উপরে উল্ল্যেখিত সকল সপ্রদায় তাদের নিজ নিজ নামে তাদের বিধান বা আইনের নাম করন করেছেন।

এরিস্টটল

এরিস্টটল

ছোট্ট একটি গ্রিক কলোনিতে জন্মগ্রহণ করেন এরিস্টটল (৩৮৪-৩২২ বিসি)। চিকিৎসক পিতা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের দাদার রাজকীয় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন। যদিও তিনি প্লেটোর ছাত্র ছিলেন কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই প্লেটোর সাথে তার মতবিরোধ আছে। তিনি চার বছর আলেকজান্ডারের শিক্ষকতা করেন। এরপর ৩৩৪ সালে এথেন্সে ফিরে গিয়ে লাইসিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন।
এরিস্টটল দার্শনিক অপেক্ষা বিজ্ঞানী হিসেবে বেশি পরিচিত। প্রকৃতির প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। তিনিই প্রথম প্রাণী ও উদ্ভিদ এই দুটি শ্রেণীতে জীবজগতকে বিভক্ত করেন। তিনি প্রাণীর অঙ্গসংস্থানবিদ্যা ও আচরণ সম্পর্কে গবেষণা করেছেন। দর্শন সম্পর্কিত প্রথম বই এরিস্টটল রচনা করেন। ল্যাটিন ভাষায় এই বইটি ‘ডি অ্যানিমা’ (De Anima) নামে পরিচিত।


প্লেটোর মতো তিনিও তিন ধরনের আত্মার কথা বলেন। যদিও দুজনের মতবাদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। তিন ধরনের আত্মার মধ্যে একটি উদ্ভিদ প্রাণ। দ্বিতীয়টি প্রাণী, যার মধ্যে মৌলিক চাহিদা, আনন্দ, কষ্ট এই অনুভূতিগুলো থাকবে। সর্বশেষ হচ্ছে মানবিক আত্মা। যেখানে চাহিদার আগে কারণ অগ্রগণ্য।

জ্ঞান চর্চার জন্ম দর্শন থেকেই। চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে যে দূরত্ব তা ব্যাখ্যা করে দর্শন। মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই কিন্তু দর্শন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে চাহিদার পরিধি। দর্শন বদলে দিতে পারে জীবনের গতি, আগ্রহের দিক। তৈরি করতে পারে কালের মহামানব। সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো এরাই তার প্রমাণ।

 সক্রেটিস

সক্রেটিস ছিলেন সত্যের পূজারি। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি সত্য সাধনা করে গেছেন। তিনি বেশ কিছু মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। এর মধ্যে একটি মেনো (Meno)। মেনো হচ্ছে অনন্ত আত্মার সাথে মিলন সম্পর্কিত মতবাদ। সক্রেটিসের মতে, অনন্ত আত্মা গভীর জ্ঞানের অধিকারী। কিন্তু প্রতিবার পুনর্জন্ম হওয়ার সাথে সাথে দেহের সাথে অনন্ত আত্মার বিচ্ছেদ ঘটে, একই সাথে বিচ্ছেদ ঘটে জ্ঞানেরও। তাই জ্ঞান অন্বেষণ না করে অনন্ত আত্মার জ্ঞান মনে করার চেষ্টা করাই শ্রেয়।

 সক্রেটি-এর সাথে দেখা হওয়ার দিনব্যাপী খেলা চলমান গ্রিসের সমৃদ্ধশালী রাজ্য রাষ্ট্রের ডাক্তার আরও বেশি করে হেমলকের জন্মভূমি হয়ে গেলেন তার ছাত্রদের প্রতিবেদনে তার বক্তব্য রাখতে হবে, প্রতিবেদনের সাথে তার প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া যাবে না সত্যই এই পূজারীর ইতিহাস তৈরি করা হয়েছে বিস্তৃত ঘটনাটি ঘটে